Text size A A A
Color C C C C
সর্ব-শেষ হাল-নাগাদ: ৯ জুলাই ২০২১

প্রকল্প পরিচিতি

প্রকল্পের পটভূমি সংক্রান্ত তথ্যাদি:

 

১. সমস্যাসহ পটভূমি বর্ণনা : 

সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা (২০১৫-২০২০) দলিলে সমগ্র দেশে ভূমি জোনিং ও ভূমি ব্যবহার পরিকল্পনা প্রণয়নের সুপারিশ করা হয়েছে এবং পরিবেশ অধিদপ্তর কর্তৃক ছাড়পত্র প্রদানের ক্ষেত্রে ভূমি জোনিং সম্পন্ন করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

আইএমইডির পরিবীক্ষণ প্রতিবেদনে মাঠ পর্যায় পর্যন্ত ভূমি জোনিং কার্যক্রম গ্রহণের সুপারিশ করা হয়েছে।

SDG এর Goal-৯, ১১, ১৫ ডেল্টা প্লান ২১০০ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও ভূমি জোনিং এর প্রয়োজনীয়তা বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

দেশের দুই ফসলী ও তিন ফসলী কৃষি জমি সুরক্ষার ক্ষেত্রে প্রকল্পটি কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

আইএমইডি কর্তৃক জুন ২০১৫ সালে প্রণীত “জাতীয় ভূমি জোনিং (২য় পর্যায়)” শীর্ষক প্রকল্পের নিবিড় পরিবীক্ষণ প্রতিবেদনে সুপারিশ করা হয়েছে যে, “ভূমি জোনিং এর প্রত্যাশিত ফলাফল মাঠ পর্যায়ে বাস্তবায়ন ও প্রতিফলনের কার্যক্রম গ্রহণ করা প্রয়োজন। চলতি প্রকল্পে সম্ভব না হলে এ বিষয়ে রাজস্ব বাজেট হতে অথবা উন্নয়ন বাজেট হতে একটি আলাদা কর্মসূচী/ প্রকল্প গ্রহণ করা যেতে পারে (সুপারিশ নং-১২.২.৫)” (ডিপিপি Appenndix-I, পৃষ্ঠা-১২০-১২৩)

ভূমি মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে “উপকূলীয় ভূমি জোনিং প্রকল্প” ২০০৬-২০১১ মেয়াদে বাস্তবায়ন করেছে, যার মাধ্যমে ১৫২ টি উপকূলীয় উপজেলার ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত ভূমি জোনিং ও ভূমি ব্যবহার পরিকল্পনা (Land Use Plan) প্রণয়ন করা হয়েছে। বাকী উপজেলা সমূহের ইউনিয়ন পর্যায় ভূমি জোনিং ও ভূমি ব্যবহার পরিকল্পনা ও ম্যাপ “জাতীয় ভূমি জোনিং প্রকল্প” এর মাধ্যমে প্রণয়ন করা হয়েছে, যা ২০১২-২০১৭ মেয়াদে বাস্তবায়ন করা হয়েছে।

জাতীয় ভূমি জোনিং প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় ১২৫টি উপজেলা, ৪০টি জেলা এবং ৮টি বিভাগীয় পর্যায়ে অনুষ্ঠিত কর্মশালা সমূহে প্রকল্পের উপকারিতা, কার্যকারিতা এবং প্রস্তাবিত আইনের খসড়ার ওপর ব্যাপক আলোচনা করা হয়। উক্ত আলোচনায় মাঠ পর্যায়ের কর্মকতা ও জনপ্রতিনিধিগণ সুপারিশ করেন যে, ভ‚মি জোনিং এর বিষয়টি এবং কৃষি জমি সুরক্ষা ও ভ‚মি ব্যবহার আইনটি সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করতে হলে এটি মৌজা ও প্লট ভিত্তিক জোনিং করা একান্ত প্রয়োজন। 

এখানে উল্লেখ্য যে, ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তর প্রধানত: ভূমির মালিকানা ও সুবিধাভোগীদের ভূমি অধিকার বিষয়ক কর্মসম্পাদন করে থাকে। কিন্তু অত্র প্রকল্পটির মাধ্যমে ভূমির ক্ষেত্রে বিন্যাস (zoning) ও সারাদেশের জন্য ভূমি ব্যবহার পরিকল্পনা (Land Use Plan) প্রণয়ন করা হবে। উপরোক্ত বিষয়াদি বিবেচনা করে ভূমি মন্ত্রণালয় কর্তৃক “মৌজা ও প্লট ভিত্তিক জাতীয় ডিজিটাল ভূমি জোনিং প্রকল্প” শীর্ষক অত্র প্রকল্পটি প্রণয়ন করা হয়েছে।  

 

২. অন্য প্রকল্প/প্রতিষ্ঠানের সাথে সম্পৃক্তা /সমন্বয়: 

ভূমি জোানিং একটি সংবেদনশীল ও বহুমাত্রিক প্রকৃতির বিষয় হওয়ায় এই প্রকল্পটি বাস্তবায়নের সময় বিভিন্ন প্রাসঙ্গিক সংস্থার অংশ গ্রহণ নিশ্চিত করা হবে। ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তর, সার্ভে অব বাংলাদেশ, মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনষ্টিটিউট, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল, বনবিভাগ, মৎস্য অধিদপ্তর, পরিবেশ অধিদপ্তর, পানি সম্পদ পরিকল্পনা, পরিবেশ অধিদপ্তর, পানি সম্পদ পরিকল্পনা সংস্থা (WARPO), মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন প্রতিষ্ঠান (SPARSO), CEGIS, ঢাকা, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল, পরিবেশ ও মৃত্তিকা সম্পদ বিভাগ, পরিবেশ ও মৃত্তিকা বিভাগ, বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা (NGO), ইত্যাদি সংস্থা সমূহের সহায়তায় এবং অংশগ্রহণে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে। এ সকল সংস্থার অভিজ্ঞতা ও কৌশল এর সঙ্গে ভূমি জোনিং বিষয়টি সমন্বয় করা হবে।  

 

৩. দারিদ্র পরিস্থিতি:

প্রকল্পটির মাধ্যমে ভূমির প্রাপ্যতা সেই সাথে টেকসই ভূমি ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন, খাদ্য নিরাপত্তা, ব্যবসার সুযোগ বৃদ্ধিসহ জনগণের পরিকল্পিত আবাসনের নিশ্চিত বিধান করা সম্ভব। ফলে প্রকল্পটি সরকারের দারিদ্র বিমোচন কর্মসূচীর সঙ্গে সরাসরি সর্ম্পকিত।

এ ছাড়া সরকারের বিভিন্ন নীতি কৌশল যেমন, দারিদ্র বিমোচন কৌশল পত্র, ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা দলিল (২০০০-২০১৪) ইত্যাদিতেও মাঠ পর্যায় পর্যন্ত ভূমি জোনিং এর বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

 

৪. প্রকল্পের বিবরণ :

মৌজা ও প্লট ভিত্তিক ভূমি জোনিং প্রকল্পটির আওতায় কোন নির্দিষ্ট এলাকার রিমোট সেন্সিং ইমেজ সংগ্রহ করে (সিইজিআইএস ও স্পারসো সহায়তায়) মৌজা শীট এর স্ক্যান কপির ওপর প্রক্ষেপন করে মৌজা ও প্লট ভিত্তিক ডিজিটাইজড ভূমি জোনিং মানচিত্র প্রণয়ন করত: ভূমি ব্যবহার পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হবে। এটি প্রধানত: প্রশাসনকে ভূমির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা প্রণয়নে সহায়তা করবে। প্রকল্পটির মাধ্যমে প্লট নাম্বার এবং প্লট ভিত্তিক বিস্তারিত তথ্যাদি ভূমি জোনিং মানচিত্রে সন্নিবেশিত করা হবে বিধায় জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের ভূমি প্রশাসনের দায়িত্ব প্রাপ্ত কর্মকর্তাগণ এই তথ্য ব্যবহার করে অপ্রতুল ভূমি সম্পদের অনুকূল/বিচক্ষণ ব্যবহার করে দেশের ভূমি সম্পদ সংরক্ষণে প্রয়োজনীয় ভূমিকা রাখতে পারবে। 


Share with :

Facebook Facebook